নারী মাতা পুরুষ (Nari Mata Purush)

যা কিছু ছুঁয়ে দাও তুমি
দেবত্বে উন্নীত হয় তারা।

এক পূর্ণিমা রাতে
নদী তীরে
কাদা মাটি ছুঁয়েছিলে তুমি।
সেই নদী তীর এখন
আমার আরাধ্য তীর্থক্ষেত্র।
যে রুমাল আমার
ছুঁয়েছিলো ললাট তোমার;
সে রুমাল এখন
আমার আরাধ্য দেবতা।

ছুঁয়ে ছুঁয়ে
ছেয়ে আছো যে মন আমার
সে মন এখন পবিত্র গঙ্গা।
চাইলেও আর
পাপ করতে পারি না।
ইচ্ছে হলেও আর
নরকে নামতে পারি না।

অথচ নারী ছোঁয়া
ছোঁয়া বৈ তো আর কিছু নয়।
পুরুষ ছুঁলে
ফুলের লজ্জা হরণ হয়।
অথচ নারী খোঁপা স্পর্শে
ফুলের মোক্ষ প্রাপ্তি হয়।

কে জানে-
স্বর্গের দেব দেবতাও হয়তো
ঊর্বশী রম্ভা তিলোত্তমার
বক্ষ স্পর্শের ফল!
সিন্ধু গঙ্গা বৈতরিনীও হয়তো
নারী নিতম্বের নগ্ন নৃত্যের ফল!
আকাশ বাতাস পৃথিবীও হয়তো
নারী নিঃশ্বাসের উর্বরতার ফল!

কে জানে
আমার উত্তরণও হয়তো
তোমার ঝিলিক চোখের
জ্যোৎস্না হাসির ফল!

আচ্ছা, বলো তো
তোমাকে কি নামে ডাকি?
ইচ্ছে হয়
তোমাকে মালবিকা নামে ডাকি!
ইচ্ছে হয়, কিন্তু সাহস হয় না।
দেবতার জন্ম যদি নারী গর্ভে
সে নারীকে নাম ধরে ডাকতে সাহস হয় না।
ইচ্ছে হয়
তোমাকে তাহলে মা নামে ডাকি!
ইচ্ছে হয়। কিন্তু তাতে লজ্জা আরও বেশি হয়।

এ পৃথিবীর পুরুষরা
প্রেয়সীকে এখনও মা ডাকতে শেখেনি।
প্রেয়সী বক্ষে
যদিও লালন পালন উত্তরণ তার;
তবুও এ পৃথিবীর পুরুষরা
সত্যকে সত্য বলতে শেখেনি।

হয়তো একদিন আমি পারবো।
একদিন আমি
রামকৃষ্ণ বামাখ্যাপার মতো
উলঙ্গ উন্মাদ হয়ে
জনসমক্ষে তোমায় পূজা করতে পারবো।

© অরুণ মাজী
Painting: John William Godward

by Arun Maji

Comments (0)

There is no comment submitted by members.