নদী মালবিকা অমল (Nodi Malobika Amal)

মালবিকা, আজ তবে তোমায়
এক নদীর গল্প বলি।

এক গাঁয়ে এক নদী ছিলো।
উথাল পাতাল স্রোত তার
সে বইতে গেলেই উপচে পড়ে।

একদিন
শ্যামলা গাঁয়ের
ময়লা মাখা এক যুবক এসে বললো-
"নদী নদী,
তোমার বুকে একটু ভাসতে দেবে?
তেঁতুলের আচার দেবো তোমাকে।
বাঁশের বাঁশিতে
সুর করে গান শোনাবো তোমাকে।
ফড়িং লেজে দূর্বা বেঁধে
ঘুড়ি উড়ানো শেখাবো তোমাকে।"

একটু হেলেদুলে নদী বললো-
দাও। আগে তেঁতুলের আচার দাও।

দিনরাত খুঁজে খুঁজে
সবচেয়ে সবুজ গাছের ধনিয়া পাতা দিয়ে
তেঁতুলের আচার বানালো যুবক।

নদী তো বেজায় খুশি!
নদী জিজ্ঞেস করলো তাকে-
"ভাসবে তো নৌকা কোথায় তোমার?
খালি গায়ে ভাসবে তুমি?
আমার বুঝি লজ্জা করে না?
কলকাতার বাবুরা সব
কোর্ট হ্যাট পরে
সুসজ্জিত নৌকাতে ভাসে আমার বুকে।"

যুবক বললো-
"আমার তো নৌকা নেই।
গাঁয়ের ছেলে আমি
গামছা ছাড়া ভালো জামা কাপড়ও নেই।
লজ্জা যদি পাও, তো থাক তাহলে।
আমার কারনে
তুমি কেন কষ্ট পাবে? "

নদী কপট রাগের স্বরে বললো-
"আমার জন্য একখানা নৌকা কিনতে পারো না?
কেমন পুরুষ মানুষ তুমি?
যাও। আমার থেকে এখুনি দূরে চলে যাও।"

যুবক চলে যেতে উদ্যত হলে
নদী চীৎকার করে ডাকলো তাকে।
"শোনো, দিনের বেলা লজ্জা করে আমার।
রাতের বেলা ভাসতে পারবে তুমি? "

যুবক বললো- "পারবো।
তুমি যখন চাইবে তখনই পারবো "

সেই থেকে
নদী বয়। যুবক ভাসে।
মাস যায় বছর যায়
নদী বয়। যুবক ভাসে।

এক বছর পর পূর্ণিমা এক রাতে
চারিদিক আলো করে সুন্দর জ্যোৎস্না ফুটলো।
সে রাতে, যুবক নদীর বুকে
ডুবসাঁতার, চিৎ সাঁতার, প্রজাপতি সাঁতার
ইত্যাদি কত ধরণের সাঁতার কাটলো।

ক্লান্ত নদী যুবককে বুকে ধরে বললো-
"জানো?
আরেকটা ছোট্ট নদী আমার গর্ভে!
কিন্তু আমি যে নদী-
চিরকুমারী! মাতৃত্ব তো আমার জন্য নয়! "

যুবক নদীর গর্ভে একটা চুমু খেয়ে বললো-
"হে নদী, তুমি নারী-
তুমি চির কুমারী, চির মাতা, চির ভার্যা।
তোমার স্পর্শে উত্থান আমার
তুমি আমার মাতা, আমার ভার্যা।"

আনন্দে নদী সেদিন উপচে পড়লো।
সেই গাঁ সে বছর ধনধান্যে ভরে উঠলো।

গল্পটা কেমন লাগলো মালবিকা?
ভালো লাগলে
আজ না হয় তুমি নদী সেজো।
আর আমি? বলো তো কি? .......

© অরুণ মাজী
Painting: William-Adolphe Bouguereau

by Arun Maji

Comments (0)

There is no comment submitted by members.