রমণী স্পর্শ ও মহাবিশ্ব রহস্য (Romoni Sporsho O Mohabishwo Rohosyo)

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা পশু ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় চৌচির ধরিত্রীর ক্ষুধা নিয়ে
শুষে নিই
কোমল বক্ষের বিন্দু বিন্দু অমৃত তোমার।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা প্রেমিক ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয়
হৃৎপিণ্ডের মধ্যে আরেকটা হৃৎপিণ্ড বানিয়ে
সাজিয়ে রাখি তোমাকে।
আমার স্পন্দনের সাথে
তুমিও স্পন্দিত হবে সেখানে।
আমার সুরের সাথে
তুমিও গাইবে সেখানে।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা আকাশ ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় পক্ষীরাজ সেজে
দিনদুপুর ডানা মেলে উড়ি
সুন্দর সুবিশাল বক্ষে তোমার।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা নদী ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় শীত গ্রীষ্ম বর্ষা নির্বিশেষে
চিৎ সাঁতার ডুব সাঁতার প্রজাপতি সাঁতার কাটি
খরস্রোতা নদীতে তোমার।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা সোনালী ধানক্ষেত ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় উলঙ্গ হয়ে খালি গায়ে
ঘুড়ি লাটাই নিয়ে হনহন করে ছুটতে থাকি
সোনালী নাভিতে তোমার।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা ফুলের সুগন্ধ ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় দুরন্ত পিপাসু ভ্রমর সেজে
শুষে নিই ওষ্ঠের সমূহ মধু তোমার।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আমার মুখ গাল বেয়ে
ঝরে পড়ুক সোনালী সুগন্ধ তোমার।

তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
মানুষ একদা কেবল একটা মানুষই ছিলো।
ছিলো নয়। এখনো আছে।
ইচ্ছে হয় আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে তোমায়
অস্তিত্বহীন আমি লুকিয়ে যাই
অনাদি অনন্ত বক্ষে তোমার।

ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি।
কেবল তোমাকে ছুঁয়ে দিলেই বুঝতে পারি
কে আমি? কে তুমি?
কে গ্রহ? কে স্রোতস্বিনী?
কে অচঞ্চল? কে মৃত্যুকামী?

রমণী স্পর্শকে যারা কেবল
যৌনতার চোখে দেখে
আজও তারা রমণী ছুঁতে পারে নি।
সপ্ত ইন্দ্রিয় বলে স্বর্গীয় যদি কিছু থাকে
তা হলো রমণী স্পর্শ।
পঞ্চ ইন্দ্রিয় যা অনুভব করে না
সেই অনুভূতিই তো
রমণী স্পর্শ দেয় মানুষকে!

© অরুণ মাজী
Painting: Pierre Auguste Cot

by Arun Maji

Comments (2)

superb written..........wonderful rhythm.................
.........extraordinary and most wonderful...beautiful rhythm ★