সুখ ও মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গাল (Sukh O Malobikar Thammar Paan Khaoya Gaal)

আকাশ ছুঁতে না পারলেও
সাতরঙা রামধনু আমি
তারিয়ে তারিয়ে দেখবো।

ওহে নগেন মাস্টার
মা কি আমার দিব্যি দিয়ে বলেছে
"অমল, তোকে ছুঁতেই হবে আকাশ"?
মা বরং বলেছে-
জ্যোৎস্নালোকিত পূর্ণিমা রাতে
আলোতে একটু ভিজলেই হলো।
মেঘলা দিনে আকাশ ফর্সা হলে
হাঁ করে রামধণু রঙ দেখলেই হলো।

আকাশ তোমরা ধরো গে বাপু
আমার তাতে কাজ নেই।
আমি বরং ততক্ষণ
তালপাতার বাঁশিতে ফুঁ দিতে দিতে
বৃন্দাবনীর পাড়ায় একটু গান শুনিয়ে আসবো।

জগাই, সাথে যাবি আমার?
জুহুরি বাড়ির জামগাছটায়
খাসা খাসা জাম হয়েছে এবার।
চামচিকের মতো গাছে চড়ে
আমরা অনেক অনেক জাম খাবো,
আর চিকন গোয়ালিনীর গান গাইবো।

জানিস জগাই, আকাশ ধরতে গিয়ে
চিৎ হয়ে উল্টে পড়ে যারা
তাদের জন্য বড় দুঃখ হয় আমার।
আহাঃ বেচারা অসহায় মানুষ!
জাম গাছের মগ ডালে চড়ে
আকাশকে ভেংচি কখনো কাটলো না!
ফড়িং লেজে দূর্বা বেঁধে
আকাশে ঘুড়ি কখনো উড়ালো না!
মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালে
মিষ্টি আদর কখনো দিলো না!

ছ্যাঃ ছ্যাঃ ছ্যাঃ
একে কি জীবন বলে পেন্তীর মা?
বাদলা দিনে উলঙ্গ হয়ে
কাদা মাটিতে কখনো গড়াগড়ি দেয় নি যারা;
চিত্রগুপ্ত সম্মুখে কোন মুখে দাঁড়াবে তারা?
গোটা একটা জীবন কাটিয়ে দিলো এরা
অথচ প্রকৃতির
রোদ জল বৃষ্টি মাখানো আদর কখনো মাখলো না!

অনামিকা আমাকে ভালোবাসে না ঠিকই।
কিন্তু অনামিকার বোন মালবিকা
সে তো আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে!
আমিও বলেছি তাকে-
আড়ালে আড়ালে দুটা একটা চুমু দিবি
তো ধনিয়া পাতার আচার দেবো তোকে।
মালবিকা কি বলেছে জানিস?
বলেছে-
"অমলদা, তুমি না একটা......"

যে বছর উলঙ্গ হয়ে হামাগুড়ি দিতে শিখেছি আমি
সে বছরই লজ্জাকে
গাঁয়ের মেলায় বেচে দিয়েছি আমি।
লজ্জা বেচে অনেক সুখ কিনেছি আমি।

মাইরি বলছি, তোমরা যারা
লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা পড়ো আমার
তাদেরকেও সুখ বিলোবো আমার।

© অরুণ মাজী

by Arun Maji

Comments (0)

There is no comment submitted by members.